পাঁচগাঁও, নেত্রকোণা: প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা এক পাহাড়ি গ্রাম
পাঁচগাঁও, নেত্রকোণা বাংলাদেশের একটি সুন্দর পাহাড়ি গ্রাম। চন্দ্রডিঙ্গা পাহাড়, ঝর্ণা এবং স্থানীয় ঐতিহ্য একে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু করে তুলেছে।

পতেঙ্গার সূর্যাস্ত, ফয়েজ লেকের পাহাড়ঘেরা পানি, ডিসি পার্কের ফুলের রাজ্য, ভাটিয়ারীর সানসেট পয়েন্ট আর সীতাকুণ্ডের পাহাড়-সৈকত — চট্টগ্রামে ঘুরতে যাওয়ার সেরা ৫টি জায়গা নিয়ে সম্পূর্ণ ভ্রমণ গাইড
পাহাড়, সাগর আর নদী — তিনটে একসাথে পাওয়া যায় এমন শহর বাংলাদেশে হাতে গোনা। ‘প্রাচ্যের রাণী’ আর দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম ঠিক তেমনই একটি শহর। ব্যবসা বা কাজে এসে এক-দুই দিনের ফাঁক পেলেই হোক, কিংবা শুধু ঘোরার পরিকল্পনা করেই আসা হোক — এই শহর আর তার আশপাশে দেখার জায়গার অভাব নেই।
অনেকগুলো জায়গার ভেতর থেকে বেছেছি এমন ৫টি, যেগুলো জনপ্রিয়তায় সবার আগে, বৈচিত্র্যে একে অপরের চেয়ে আলাদা, আর যাতায়াতেও সহজ: সমুদ্রের জন্য পতেঙ্গা, পরিবার নিয়ে পুরো দিনের জন্য ফয়েজ লেক, ফুলপ্রেমীদের জন্য ডিসি পার্ক, নিরিবিলি বিকেলের জন্য ভাটিয়ারী, আর অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য সীতাকুণ্ড।
এক নজরে:
Table of contents [Show]
চট্টগ্রাম শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দক্ষিণে, কর্ণফুলী নদী আর বঙ্গোপসাগরের মিলনস্থলে পতেঙ্গা। শহরের এত কাছে সমুদ্র পাওয়াটাই এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।
এখানকার অভিজ্ঞতাটা অন্য সৈকত থেকে আলাদা: একদিকে ঢেউ, আর দূরে সারি সারি নোঙর করা জাহাজ; পাশেই বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি আর শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থাকায় মাথার ওপর দিয়ে বিমানের ওঠানামা দেখাটাও বাড়তি মজা। তীরের দোকানগুলোতে পাবেন ভাজা লইট্যা, চিংড়ি আর কাঁকড়া ফ্রাইয়ের মতো সামুদ্রিক খাবার, চাইলে স্পিডবোটে ঘুরেও আসতে পারবেন, আর কেনাকাটার জন্য আছে বার্মিজ মার্কেট।
সেরা সময়: বিকেল থেকে সূর্যাস্ত। ভিড় এড়াতে চাইলে সকালে যান, আর বছরের হিসাবে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি সবচেয়ে আরামদায়ক।
জেনে রাখুন: সৈকতে প্রবেশে আলাদা ফি নেই, তবে রাইড, বোট আর পার্কিংয়ে খরচ আছে। এখানে স্রোত জোরালো হতে পারে — সাঁতারে না নামা কিংবা খুব সতর্ক থাকাই নিরাপদ।
শহরের পাহাড়তলী–খুলশী এলাকায়, ছোট-বড় সবুজ পাহাড়ে ঘেরা এই কৃত্রিম হ্রদের জন্ম ১৯২৪ সালে — আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ে রেল কলোনিতে পানি সরবরাহের জন্য লেকটি খনন করেছিল, আর নামটি এসেছে এর নকশা করা ব্রিটিশ প্রকৌশলী মি. ফয়ের নাম থেকে। প্রায় ৩৩৬ একর জায়গা জুড়ে লেকটির পাশেই শহরের সবচেয়ে উঁচু পাহাড় বাটালি হিল, আর কাছেই চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা।
শুধু লেক দেখেই থেমে থাকতে হবে না: লেকে নৌকা ভ্রমণ, পাশে কনকর্ডের অ্যামিউজমেন্ট পার্কে রোলার কোস্টার, ফেরিস হুইলসহ নানা রাইড, ‘সি ওয়ার্ল্ড’ ওয়াটার পার্ক আর লেকপাড়ের রিসোর্ট মিলিয়ে পরিবার নিয়ে পুরো এক দিন কাটানোর মতো আয়োজন এখানে আছে।
সেরা সময়: সকালের দিকে ঢুকলে লেক আর পার্ক দুটোই আরামে ঘোরা যায়।
জেনে রাখুন: পার্ক সাধারণত সকাল ১০টা–সাড়ে ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলা থাকে এবং প্রবেশ টিকিট আনুমানিক ৩০০ টাকা থেকে শুরু হয়; রাইড ও সি ওয়ার্ল্ডের প্যাকেজ আলাদা। টিকিটের দাম ও সময় বদলাতে পারে, তাই যাওয়ার আগে ফয়েজ লেকের অফিসিয়াল পেজে সর্বশেষ তথ্য দেখে নিন।
ফৌজদারহাটে বন্দর সংযোগ রোডের পাশে, প্রায় ১৯৪ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা ডিসি পার্ককে বলা হয় বাংলাদেশের বৃহত্তম ফুলের বাগান। শীত এলেই এখানে বসে দেশি-বিদেশি প্রায় ১৪০ প্রজাতির লক্ষাধিক ফুলের মেলা — ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, গাঁদা, গোলাপ, এমনকি টিউলিপও। প্রতি বছর শীতে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এখানে মাসব্যাপী ফুল উৎসব হয়।
ফুল ছাড়াও আছে লেকে নৌকা ভ্রমণ ও কায়াকিং, সানসেট ভিউ পয়েন্ট, সেলফি কর্নার, কিডস জোন আর রেস্টুরেন্ট — অর্থাৎ পরিবারের সব বয়সীর জন্যই কিছু না কিছু আছে এখানে। ঘোরাফেরাতেই ডিসি পার্ক নিয়ে বিস্তারিত লেখা আছে: ‘ডিসি পার্ক চট্টগ্রাম: বাংলাদেশের বৃহত্তম ফুলের বাগান’।
সেরা সময়: শীতকাল, বিশেষ করে ফুল উৎসব চলাকালে; দিনের আলোতে এলে ফুলের রঙ সবচেয়ে ভালো ধরা পড়ে।
জেনে রাখুন: পার্ক প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে, প্রবেশ ফি ৫০ টাকা, অনলাইনেও টিকিট কেনা যায়।
শহর থেকে মাত্র ১৫–১৯ কিলোমিটার উত্তরে, সিটি গেট থেকে প্রায় ২০ মিনিটের পথ — অথচ পরিবেশ একেবারেই আলাদা। হাটহাজারী–ভাটিয়ারী লিংক রোডের আঁকাবাঁকা, উঁচু-নিচু পাহাড়ি রাস্তা ধরে যাওয়াটাই এখানকার ভ্রমণের অর্ধেক আনন্দ।
ভাটিয়ারীর আকর্ষণগুলো এক জায়গায় জড়ো: পাহাড়ে ঘেরা ভাটিয়ারী লেক (নৌকা ভ্রমণের সুযোগসহ), দূরে সাগর দেখা যায় এমন সানসেট পয়েন্ট, সেনাবাহিনী পরিচালিত গলফ ক্লাবের সবুজ প্রান্তর আর জনপ্রিয় ক্যাফে ২৪। এলাকাটি সেনানিবাস-সংলগ্ন বলে নিরাপত্তা নিয়েও ভাবনা কম।
সেরা সময়: বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা — লেকের পানিতে সোনালি আলোর প্রতিফলন আর পাহাড়ের গায়ে সূর্যাস্ত, দুটোই তখন সেরা রূপে ধরা দেয়।
জেনে রাখুন: এটি পুরোপুরি ডে-ট্রিপের জায়গা; থাকার দরকার হলে চট্টগ্রাম শহরেই থাকা সুবিধাজনক।
হাতে পুরো একটা দিন থাকলে শহর থেকে প্রায় ৩৭–৪০ কিলোমিটার উত্তরের সীতাকুণ্ড এই তালিকার সেরা ডে-ট্রিপ। সকালে শুরু করুন প্রায় হাজার ফুট উঁচু চন্দ্রনাথ পাহাড় দিয়ে: সীতাকুণ্ড বাজার থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার পূর্বে পাহাড়টির চূড়ায় আছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তীর্থ চন্দ্রনাথ মন্দির, আর পথজুড়ে ঘন সবুজ। চূড়ায় পৌঁছালে একদিকে পাহাড়ের সারি, আরেকদিকে দূরে সমুদ্র — পরিশ্রমের পুরস্কারটা সেখানেই।
বিকেলটা রাখুন গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতের জন্য। সীতাকুণ্ড বাজার থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরের এই সৈকত আর দশটা সৈকতের মতো নয়: বালির বদলে এখানে বিস্তীর্ণ সবুজ ঘাসের মাঠ, কেওড়া বন আর তার ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট ছোট খাল। সূর্যাস্তের সময়টা এখানে অসাধারণ। সময় বাঁচলে একই ভ্রমণে সীতাকুণ্ড ইকোপার্কের ঝরনাগুলোও যোগ করা যায় — ঘোরাফেরার ‘সীতাকুণ্ড — একেক মৌসুমে একেক সাজ’ লেখায় এই এলাকার আরও বিস্তারিত পাবেন।
সেরা সময়: ভোরে রওনা দিন; শীতকাল ট্রেকিংয়ের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক।
জেনে রাখুন: আরামদায়ক গ্রিপওয়ালা জুতা পরুন, সাথে পর্যাপ্ত পানি রাখুন, আর বর্ষায় পাহাড়ি পথ পিচ্ছিল থাকে বলে অতিরিক্ত সতর্ক থাকুন। মন্দির এলাকার ধর্মীয় পরিবেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকুন।
একদিনে (শহরের ভেতরে): সকালটা ডিসি পার্কে (শীতকালে) কিংবা ফয়েজ লেকে কাটিয়ে, বিকেলটা রাখুন পতেঙ্গার সূর্যাস্তের জন্য। ফয়েজ লেক বেছে নিলে সেদিন ভাটিয়ারীর সানসেট একটু বেশি তাড়াহুড়ো হয়ে যাবে — যেকোনো একটা বেছে নিন।
দুদিনে: প্রথম দিন শহরের তিনটি জায়গা (ফয়েজ লেক, ডিসি পার্ক, পতেঙ্গা) ধীরে-সুস্থে ঘুরুন, দ্বিতীয় দিন ভোরে বেরিয়ে পড়ুন সীতাকুণ্ডের পথে, ফেরার পথে বিকেলে ভাটিয়ারীতে সূর্যাস্ত দেখে শহরে ফিরুন।
চট্টগ্রামে একদিনে কয়টি জায়গা ঘোরা সম্ভব?
আরাম করে ২–৩টি। ফয়েজ লেক ও পতেঙ্গা, অথবা ডিসি পার্ক ও পতেঙ্গা — এই জুটিগুলো একদিনে সবচেয়ে সহজ।
পরিবার ও শিশুদের জন্য কোনটি সেরা?
ফয়েজ লেক ও ডিসি পার্ক — দুটোতেই শিশুদের জন্য আলাদা আয়োজন আছে এবং পরিবেশ নিয়ন্ত্রিত।
চট্টগ্রাম ভ্রমণের সেরা সময় কখন?
শীতকাল, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি। বর্ষায় পাহাড়ি গন্তব্যগুলোতে অতিরিক্ত সতর্কতা দরকার।
চট্টগ্রামের সৌন্দর্য তার বৈচিত্র্যে — একই শহরে সকালে পাহাড়, দুপুরে লেক আর বিকেলে সাগর। এই ৫টি জায়গা দিয়ে শুরু করলে বন্দরনগরীকে চেনা হয়ে যাবে অনেকটাই; তারপর অপেক্ষা করবে লালদিঘির ঐতিহ্য কিংবা বাঁশবাড়িয়ার নির্জনতার মতো আরও অনেক গল্প। আপনার চট্টগ্রাম ভ্রমণ হোক নিরাপদ আর স্মরণীয়!
ছবি: পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে সূর্যাস্ত — Rony Barua, CC BY-SA 4.0, Wikimedia Commons
পাঁচগাঁও, নেত্রকোণা বাংলাদেশের একটি সুন্দর পাহাড়ি গ্রাম। চন্দ্রডিঙ্গা পাহাড়, ঝর্ণা এবং স্থানীয় ঐতিহ্য একে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু করে তুলেছে।
বান্দরবানের লামা উপজেলার দর্শনীয় স্থান, ঘোরাঘুরির খরচ, কিভাবে যাবেন এবং থাকার ব্যবস্থাসহ পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণ গাইড।
মিরিঞ্জা ভ্যালি, লামা: পাহাড়, মেঘের খেলা, মাতামুহুরী নদীর সৌন্দর্য ও রোমাঞ্চকর রিসোর্ট অভিজ্ঞতা। বিস্তারিত জানুন এখানে।


