সিআরবি শিরিষতলা ভ্রমণ গাইড: ১৮৭২ সালের রেল ভবন আর বন্দরনগরীর ‘ফুসফুস’
চট্টগ্রামের সিআরবি এলাকার সম্পূর্ণ গাইড — ১৮৭২ সালে নির্মিত সেন্ট্রাল রেলওয়ে বিল্ডিং, শতবর্ষী শিরিষ-গর্জনের ছায়ায় শিরিষতলা, পয়লা বৈশাখের বলী খেলা আর শহরের প্রিয় আড্ডার চত্বর।

‘বারো আউলিয়ার দেশ’ চট্টগ্রামের ধর্মীয় ঐতিহ্যের ভ্রমণ-গাইড — হযরত বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার ও বিশ্ববিখ্যাত বিপন্ন কাছিমের পুকুর, হযরত শাহ আমানতের দরগাহ, গরীবুল্লাহ শাহের দরবার, বদর আউলিয়া ও কদম মোবারক মসজিদ।
চট্টগ্রামকে বলা হয় ‘বারো আউলিয়ার দেশ’ — যুগে যুগে সমুদ্র ও পাহাড়ি পথ ধরে আসা সুফি দরবেশদের খানকাহ আর দরগাহ এই বন্দর নগরীর আত্মায় মিশে আছে। আজও প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই মাজারগুলোতে আসেন — কেউ জিয়ারতে, কেউ ইতিহাস খুঁজতে, কেউ বা শুধু কাছিম দেখতে। লালদীঘি: চট্টগ্রামের ঐতিহ্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি-র পাশ ঘিরেই এই আধ্যাত্মিক ভূগোলের শুরু।
Table of contents [Show]
নাসিরাবাদে সেনানিবাসের কাছে ছোট পাহাড়ের চূড়ায় ইরানের প্রখ্যাত সুফি হযরত বায়েজিদ বোস্তামী (রহ.) (মৃত্যু ৮৭৪ খ্রিস্টাব্দ)-এর নামে প্রতিষ্ঠিত দরগাহ। সৎভাবে বলা দরকার, ইতিহাসবিদদের মতে তাঁর প্রকৃত সমাধি এখানে নয় — এটি তাঁকে উৎসর্গ করে গড়া প্রতিরূপ; তবু ঊনবিংশ শতকে (প্রচলিত মতে ১৮৩১ সালে) পাহাড়ে আবিষ্কৃত এই সমাধিস্থল ঘিরে ভক্তির ধারা শতাব্দী ধরে অব্যাহত। পাহাড়ের পাদদেশে আওরঙ্গজেবের আমলের ধাঁচে তিন গম্বুজবিশিষ্ট প্রাচীন মসজিদ আর সুবিশাল পুকুর।
পুকুরটাই এখানকার বিশ্ববিখ্যাত আকর্ষণ: এতে বাস করে বোস্তামীর কাছিম — কালো নরম খোলসের কচ্ছপ (বৈজ্ঞানিক নাম নিলসোনিয়া নিগ্রিকান্স), যেটি পৃথিবীর মহাবিপন্ন প্রজাতিগুলোর একটি। একসময় বিজ্ঞানীরা মনে করতেন প্রজাতিটি বন্য পরিবেশে বিলুপ্ত, টিকে আছে শুধু এই পুকুরেই; পরবর্তী গবেষণায় উপমহাদেশের আরও দু-একটি জলাশয়ে এর সন্ধান মিললেও এই পুকুরই এর প্রাচীনতম আবাস। পুকুরে আনুমানিক দুই শতাধিক কাছিম ও প্রচুর গজার মাছ আছে — দর্শনার্থীরা কলা-খই খাওয়ালে তারা সারি বেঁধে ঘাটে ভেসে ওঠে। লোককথায় এরা সাধকের অভিশাপে কাছিমরূপী দুষ্ট জিন — বিশ্বাস যা-ই হোক, প্রাণীগুলোকে বিরক্ত না করাই নিয়ম; তত্ত্বাবধানে আছে চিটাগাং এনডাউমেন্ট কমিটি।
লালদীঘির পূর্ব পাশে হযরত শাহ সুফী আমানত খান (রহ.)-এর দরগাহ — বাংলাপিডিয়ার বর্ণনায় অষ্টাদশ শতকের শেষভাগের এই দরবেশ বিহার শরীফ থেকে এসে চট্টগ্রাম জজ কোর্টে পাখা টানার (পাখাওয়ালা) সামান্য চাকরি করতেন; দিনে কোর্টের কাজ, রাতে ইবাদত — নিজের আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্য গোপন রাখাই ছিল তাঁর রীতি। এক অলৌকিক ঘটনায় (করামত) তাঁর প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ পেলে তিনি চাকরি ছেড়ে সাধনায় মগ্ন হন। আজও মাজারে বিশেষত মামলা-মোকদ্দমায় জয় ও মানসিক শান্তি কামনায় অগণিত মানুষ আসেন; ২৭শে রমজানের রাতে এখানে অসাধারণ ভিড় হয়। তাঁর নামেই শহরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও কর্ণফুলীর শাহ আমানত সেতু — নামটি চট্টগ্রামবাসীর দৈনন্দিন জীবনের অংশ।
বোস্তামীর পুকুরের কাছিম কি খাওয়ানো যায়?
হ্যাঁ, ঘাটে নির্দিষ্ট খাবার (কলা, খই) পাওয়া যায় — প্লাস্টিক বা ক্ষতিকর কিছু পানিতে ফেলবেন না।
অমুসলিম দর্শনার্থী কি মাজারে যেতে পারেন?
সাধারণত বাইরের চত্বর ও পুকুরঘাট সব ধর্মের মানুষের জন্য উন্মুক্ত; জিয়ারতের জায়গায় স্থানীয় নিয়ম ও শালীনতা মানা আবশ্যক।
শাহ আমানতের মাজারে বিশেষ ভিড় কখন?
২৭ রমজানের রাতে এবং উরসের সময়।
মাজারগুলো চট্টগ্রামের শুধু ধর্মীয় নয়, সামাজিক ঐতিহ্যও — এখানে ইতিহাস, লোকবিশ্বাস আর প্রকৃতি একসূত্রে গাঁথা। জেলার উত্তরের তীর্থধারার সঙ্গে মিলিয়ে পড়তে পারেন সীতাকুণ্ড: একেক মৌসুমে একেক সাজ। শ্রদ্ধা নিয়ে ঘুরুন, জ্ঞান নিয়ে ফিরুন!
চট্টগ্রামের সিআরবি এলাকার সম্পূর্ণ গাইড — ১৮৭২ সালে নির্মিত সেন্ট্রাল রেলওয়ে বিল্ডিং, শতবর্ষী শিরিষ-গর্জনের ছায়ায় শিরিষতলা, পয়লা বৈশাখের বলী খেলা আর শহরের প্রিয় আড্ডার চত্বর।
কালুরঘাটের পূর্ণ গাইড — ১৯৩০ সালের রেল সেতুর ইতিহাস, গঠন ও বর্তমান অবস্থা, আর ১৯৭১-এর ২৬–৩০ মার্চের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ঐতিহাসিক ভূমিকা; যাতায়াত ও দর্শনের বাস্তব টিপসসহ।
কর্ণফুলীতে নৌকা ভ্রমণের ব্যবহারিক গাইড — কোন ঘাট থেকে সাম্পান ভাড়া করবেন, কোন দিকে যাবেন (মোহনা বা কালুরঘাট), ভাড়া ঠিক করার কৌশল, সেরা সময় ও নিরাপত্তা টিপস।


