• 30 Oct, 2026

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে ২০১ গম্বুজ মসজিদ — ২০১৩ সালে মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম কল্যাণ ট্রাস্টের শুরু করা নির্মাণ, ২০১টি গম্বুজ ও ৯টি মিনারের নকশা, রেকর্ড দাবির বাস্তবতা, বর্তমান অবস্থা ও যাতায়াত গাইড।

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ছোট্ট গ্রাম দক্ষিণ পাথালিয়ায় ঝিনাই নদীর তীরে দাঁড়িয়ে আছে এমন এক মসজিদ, যার ছাদে গম্বুজ গুনতে গেলে দুইশ পেরিয়ে যায় — ২০১ গম্বুজ মসজিদ। আয়োজকদের ভাষ্যে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ, আর এর পাশে ওঠা মূল মিনারটি বিশ্বের উচ্চতম কংক্রিট মিনার হওয়ার কথা। দাবি আর বাস্তবের ফারাকটুকুসহ পুরো গল্পটাই এই মসজিদকে দেখার মতো করে তোলে। টাঙ্গাইল ভ্রমণে মহেরা জমিদার বাড়ির সঙ্গে একই সফরে এটি রাখা যায়।

একজন মুক্তিযোদ্ধার স্বপ্ন

মসজিদটির উদ্যোক্তা এই গ্রামেরই সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম — জন্মভূমিতে এমন একটি মসজিদ গড়ার স্বপ্ন থেকে তিনি গঠন করেন মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম কল্যাণ ট্রাস্ট। প্রায় ১৫ বিঘা জমির ওপর ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে নির্মাণকাজ শুরু হয়; ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তাঁর মা রিজিয়া খাতুন (বাংলা উইকিপিডিয়া/মুসাফির)। পুরো প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১০০ কোটি টাকা (বাংলা উইকিপিডিয়া)। কমপ্লেক্সে মসজিদ ছাড়াও এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, নারীদের জন্য দাতব্য হাসপাতাল ও হেলিপ্যাডের পরিকল্পনা ছিল (আরব নিউজ/মুসাফির)।

২০১ গম্বুজ, ৯ মিনার

দ্বিতল মসজিদ ভবনটি বর্গাকার — দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে ১৪৪ ফুট করে (মুসাফির)। ছাদের কেন্দ্রে ৮১ ফুট উঁচু মূল গম্বুজ, তার চারপাশে সাজানো ১৭ ফুট উচ্চতার আরও ২০০টি গম্বুজ — মোট ২০১ (বাংলা উইকিপিডিয়া)। মিনার মোট ৯টি: চার কোণে ১০১ ফুট করে চারটি, ভেতরের দিকে ৮১ ফুটের আরও চারটি, আর মসজিদের পাশে পৃথকভাবে নির্মিত মূল মিনার — পরিকল্পিত উচ্চতা ৪৫১ ফুট (প্রায় ৫৫–৫৭ তলা ভবনের সমান) (বাংলা উইকিপিডিয়া/মুসাফির)। আয়োজকদের তথ্যে, মসজিদে একসঙ্গে প্রায় ১৫ হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন; দেয়ালে অঙ্কিত আছে সম্পূর্ণ কোরআন শরিফ এবং প্রধান দরজায় ব্যবহার হয়েছে ৫০ মণ পিতল — এগুলো আয়োজকপক্ষের প্রচারিত তথ্য (ক্লিপজাগ/ট্রাস্ট)। গম্বুজের সংখ্যার দিক থেকে একে বিশ্বের সর্বাধিক গম্বুজের মসজিদ বলা হয় — বাগেরহাটের ঐতিহাসিক নয় গম্বুজ মসজিদের সঙ্গে তুলনা করলেই আধুনিক এই উদ্যোগের স্কেল বোঝা যায়।

দাবি বনাম বর্তমান অবস্থা — সোজাসাপ্টা

দুটি বিষয়ে প্রত্যাশা ঠিক করে যাওয়া ভালো। প্রথমত, "গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্বীকৃতি" ও "বিশ্বের উচ্চতম কংক্রিট মিনার" — এই দাবিগুলো প্রধানত আয়োজক ও তাঁদের প্রচারণা-নির্ভর সংবাদে এসেছে; মিনারটির নির্মাণে প্রযুক্তিগত জটিলতার কথাও উদ্যোক্তারা নিজেরাই জানিয়েছিলেন (আরব নিউজ)। দ্বিতীয়ত, কাজের অগ্রগতি: মূল মসজিদ ভবন নির্মিত হয়ে নামাজের কাজে ব্যবহৃত হলেও, হালনাগাদ বিশ্বকোষীয় তথ্যেও কমপ্লেক্সটিকে "নির্মাণাধীন" হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে (বাংলা উইকিপিডিয়া) — অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ কমপ্লেক্সের সব অংশ এখনো শেষ হয়নি। তাই গিয়ে হয়তো দেখবেন নির্মাণকাজের চিহ্ন — তবে ২০১টি গম্বুজের ছাদের দৃশ্য তাতেও কম বিস্ময়কর নয়।

যাতায়াত

মসজিদটি টাঙ্গাইল জেলা সদর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, গোপালপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে (মুসাফির)। ঢাকা থেকে বাসে টাঙ্গাইল হয়ে গোপালপুর, সেখান থেকে অটো/রিকশায় দক্ষিণ পাথালিয়া। এটি একটি সক্রিয় উপাসনালয় — নামাজের সময় ছাড়া ভদ্র পোশাকে ঘুরুন, ভেতরে প্রবেশের ক্ষেত্রে মসজিদ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলুন, আর ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

২০১ গম্বুজ মসজিদ কোথায়?

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার দক্ষিণ পাথালিয়া গ্রামে, ঝিনাই নদীর তীরে (বাংলা উইকিপিডিয়া)।

কে নির্মাণ করছেন, কবে শুরু?

মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম কল্যাণ ট্রাস্ট; শুরু জানুয়ারি ২০১৩ (মুসাফির)।

গম্বুজ ও মিনারের হিসাব কী?

মূল গম্বুজসহ ২০১টি গম্বুজ; ৯টি মিনার — মূল মিনারের পরিকল্পিত উচ্চতা ৪৫১ ফুট (বাংলা উইকিপিডিয়া)।

এটি কি বিশ্ব রেকর্ডধারী?

সর্বাধিক গম্বুজ ও উচ্চতম কংক্রিট মিনারের দাবি আয়োজকদের প্রচারণায় এসেছে; স্বাধীনভাবে পূর্ণ যাচাই এই লেখায় সম্ভব হয়নি।

মসজিদের কাজ কি শেষ?

মূল ভবনে নামাজ হয়, তবে কমপ্লেক্স সামগ্রিকভাবে এখনো নির্মাণাধীন হিসেবে উল্লেখিত (বাংলা উইকিপিডিয়া)।

শেষকথা

২০১ গম্বুজ মসজিদ একজন মানুষের আজীবন স্বপ্নের স্থাপত্যিক রূপ — হিসাবের চেয়ে বড় এর গল্পটা। রেকর্ডের দাবি যাই হোক, ঝিনাই নদীর তীরে দুই শতাধিক গম্বুজের এই সারি বাংলাদেশের আধুনিক ধর্মীয় স্থাপত্যের সবচেয়ে আলোচিত দৃশ্য — একবার নিজের চোখে দেখে আসুন।