• 30 Oct, 2026

গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক — ২০১৩ সালে উদ্বোধন, প্রায় ৩,৬৯০ একর শালবন, কোর সাফারি বাস ভ্রমণ, সাফারি কিংডম, টিকিটের হালনাগাদ তালিকা, মঙ্গলবার বন্ধের সতর্কতাসহ পূর্ণ গাইড।

ঢাকার উত্তরে শালবনের ভেতরে বাসের জানালা দিয়ে বাঘ-সিংহের ঘোরাফেরা দেখার অভিজ্ঞতা — গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ সাফারি-ধাঁচের পার্ক। পাশের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান যেখানে নীরব বনভ্রমণের, এই পার্ক সেখানে প্রাণীজগতের জমকালো প্রদর্শনী — গাজীপুরে এলে দুটো মিলিয়ে সাজানোই সেরা পরিকল্পনা।

থাইল্যান্ডের আদলে, শালবনের বুকে (২০১৩)

পার্কটি গড়ে উঠেছে শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ও পিরুজালি ইউনিয়নের শালবনে; থাইল্যান্ডের সাফারি ওয়ার্ল্ডের অনুকরণে তৈরি এই পার্ক উদ্বোধন হয় ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর (ভ্রমণগাইড/যোগসূত্র)। আয়তন নিয়ে সূত্রে কিছুটা তারতম্য থাকলেও সাধারণভাবে এটি প্রায় ৩,৬৯০ একর — এশিয়ার বড় সাফারি পার্কগুলোর একটি। পুরো এলাকা পাঁচটি অংশে ভাগ করা: বঙ্গবন্ধু স্কয়ার, কোর সাফারি, সাফারি কিংডম, বায়োডাইভারসিটি পার্ক ও এক্সটেনসিভ এশিয়ান সাফারি পার্ক (ভ্রমণগাইড)।

কোর সাফারি: বাসের ভেতর আপনি, বাইরে বাঘ-সিংহ

পার্কের প্রাণ কোর সাফারি — হাজার একরেরও বেশি জুড়ে এই সংরক্ষিত অংশে হেঁটে ঢোকা সম্পূর্ণ নিষেধ; দর্শনার্থীরা পার্কের নিজস্ব এসি বাস বা জিপে চড়ে ঘোরেন, আর বাইরে মুক্তভাবে ঘুরে বেড়ায় রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সাদা সিংহ, কালো ভাল্লুক, চিতা, জিরাফ, জেব্রা, নানা প্রজাতির হরিণ, গয়াল ও ওয়াইল্ডবিস্ট (ভ্রমণগাইড/ক্লিপজ্যাগ)। পুরো ট্যুরে লাগে প্রায় ১৫–২০ মিনিট — কপাল ভালো থাকলে বাঘ এসে রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে যাওয়ার দৃশ্যও মেলে (ভ্রমণগাইড)। বনের রাজাদের আসল সাম্রাজ্য অবশ্য সুন্দরবন — তবে ঢাকার এত কাছে এমন কাছ থেকে বাঘ দেখার সুযোগ এটাই একমাত্র।

সাফারি কিংডম ও বাকি আকর্ষণ

হেঁটে ঘোরার অংশ সাফারি কিংডমে (প্রায় ৫৭৫ একর, ক্লিপজ্যাগ) আছে প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘর (ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম), মেরিন অ্যাকোয়ারিয়াম, প্রজাপতি বাগান, ম্যাকাও ল্যান্ড ও তোতা পাখির এভিয়ারি, কুমির পার্ক, ঝুলন্ত সেতু, পেলিকান দ্বীপ, ওয়াচ টাওয়ার, নৌভ্রমণ আর শিশু পার্ক। খাবারের জন্য বিখ্যাত টাইগার রেস্টুরেন্ট ও লায়ন রেস্টুরেন্ট — খেতে খেতে কাচের ওপাশে প্রাণীদের দেখা যায়, যদিও দাম একটু চড়া (যোগসূত্র)। বায়োডাইভারসিটি অংশে (প্রায় ৯৬৫ একর) সংরক্ষিত প্রাকৃতিক বন ও শিক্ষামূলক প্রদর্শনী।

টিকিট, সময় ও যাতায়াত

সাপ্তাহিক বন্ধ: মঙ্গলবার — এই দিন গেলে ফিরে আসতে হবে, অবশ্যই মনে রাখুন (সব সূত্রে একমত)। অন্য দিনগুলোতে পার্ক খোলা থাকে সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ২০২৫ সালের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী প্রবেশ ফি প্রাপ্তবয়স্ক ৫০ টাকা, ১২ বছরের কম বয়সী ২০ টাকা, ছাত্র ১০ টাকা, বিদেশি পর্যটক ১,০০০ টাকা; কোর সাফারির টিকিট আলাদা — প্রাপ্তবয়স্ক ১৫০ টাকা, শিশু/ছাত্র ৫০ টাকা (থিংকবেঙ্গল/যোগসূত্র)। ফি যেকোনো সময় বদলাতে পারে, গেটের তালিকাই চূড়ান্ত। যাওয়া: মহাখালী/গুলিস্তান থেকে ময়মনসিংহগামী বাসে বাঘের বাজার নেমে রিকশা বা সিএনজিতে প্রায় ২০ মিনিট — পার্কের গেট (ভ্রমণগাইড); ঢাকা থেকে মোট দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার। টিপস: ছুটির দিনে কোর সাফারির বাসে লম্বা লাইন পড়ে — সকাল সকাল পৌঁছান; পুরো পার্ক ঘুরতে অন্তত অর্ধেক দিন হাতে রাখুন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

সাফারি পার্ক কবে উদ্বোধন হয়?

২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর (ভ্রমণগাইড/যোগসূত্র)।

কোন দিন বন্ধ থাকে?

প্রতি মঙ্গলবার সাপ্তাহিক বন্ধ (থিংকবেঙ্গল)।

প্রবেশ ও কোর সাফারির ফি কত?

২০২৫-এর তালিকায় প্রবেশ ৫০ টাকা, কোর সাফারি আলাদা ১৫০ টাকা (প্রাপ্তবয়স্ক); হালনাগাদ তালিকা গেটে দেখুন (থিংকবেঙ্গল/যোগসূত্র)।

কোর সাফারিতে কী দেখা যায়?

বাঘ, সাদা সিংহ, ভাল্লুক, জিরাফ, জেব্রা, হরিণসহ মুক্ত পরিবেশের বন্য প্রাণী — পার্কের বাসে চড়ে (ভ্রমণগাইড)।

ঢাকা থেকে কীভাবে যাবেন?

ময়মনসিংহগামী বাসে বাঘের বাজার, সেখান থেকে রিকশা/সিএনজিতে পার্ক (ক্লিপজ্যাগ)।

শেষকথা

পরিবারের শিশুদের প্রথম বাঘ-দর্শন হোক, কিংবা বন্ধুদের নিয়ে সপ্তাহান্তের অভিযান — গাজীপুর সাফারি পার্ক ঢাকার কাছের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর দিন-ভ্রমণগুলোর একটি। শুধু দিনটা মঙ্গলবার ফেলবেন না!