• 29 Oct, 2026

কমলদহ ট্রেইল গাইড: রূপসী, ছাগলকান্দা ও পাথরভাঙ্গা — সীতাকুণ্ডের লুকানো ঝর্ণা-শৃঙ্খল

কমলদহ ট্রেইল গাইড: রূপসী, ছাগলকান্দা ও পাথরভাঙ্গা — সীতাকুণ্ডের লুকানো ঝর্ণা-শৃঙ্খল

বড় কমলদহ ট্রেইলের সম্পূর্ণ গাইড — বড় দারোগার হাট থেকে রূপসী ঝর্ণা হয়ে কমলদহ, ছাগলকান্দা, পাথরভাঙ্গা ও ছুরিকাটা; রুটের মানচিত্র, গাইড ও নিরাপত্তা পরামর্শসহ।

খৈয়াছড়া আর নাপিত্তাছড়ার ভিড়ে সীতাকুণ্ড-মিরসরাই রেঞ্জের আরেক ট্রেইল তুলনামূলক কম পরিচিত রয়ে গেছে — কমলদহ ট্রেইল। একটি-দুটি নয়, এই এক ট্রেইলেই পরপর পাঁচটির বেশি ঝর্ণা: রূপসী, কমলদহ, ছাগলকান্দা, পাথরভাঙ্গা, ছুরিকাটা। রেঞ্জটির বড় পরিসর বুঝতে পড়ুন সীতাকুণ্ড: একেক মৌসুমে একেক সাজ।

ট্রেইলের ক্রম

  • শুরু: বড় দারোগার হাট থেকে ইটভাটার পাশ দিয়ে রেললাইন পার হয়ে ঝিরিপথে প্রবেশ।
  • রূপসী ঝর্ণা: ট্রেইলের প্রথম ঝর্ণা — এর ওপরে উঠলেই শুরু হয় আসল বড় কমলদহ ট্রেইল।
  • কমলদহ ঝর্ণা: তিন ধাপের ঝর্ণা, যদিও নিচ থেকে সাধারণত একটি ধাপই দেখা যায় (বাংলা ট্রিবিউনের সাম্প্রতিক ভ্রমণ প্রতিবেদন)।
  • ছাগলকান্দা ঝর্ণা: কমলদহ পেরিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা এগোলে পথ ইংরেজি ‘ওয়াই’ অক্ষরের মতো ভাগ হয়; পরপর দুই জংশনে বাঁ দিকের পথ ধরলেই ছাগলকান্দা। একই নামের দ্বিতীয় ধাপ (ছাগলকান্দা-২) আরও ভেতরে।
  • পাথরভাঙ্গা ও ছুরিকাটা: অন্য শাখায় পাথরভাঙ্গা; আরেক শাখার শেষ প্রান্তে ছুরিকাটা ঝর্ণা। পথ বারবার ভাগ হয় বলেই প্রথমবারের জন্য স্থানীয় গাইড প্রায় বাধ্যতামূলক।

সময় ও পরিকল্পনা

  • পুরো ট্রেইল ধীরে ঘুরতে ভালোমতো একটা দিন (ভ্রমণকারীদের অভিজ্ঞতায় ৭–৮ ঘণ্টা পর্যন্ত) লাগতে পারে; অর্ধেক রুট (রূপসী + কমলদহ + ছাগলকান্দা) করলেও তৃপ্তিকর দিন হয়।
  • পথে দোকানপাট নেই — পানি ও শুকনো খাবার সঙ্গে নিন; খুব ভোরে শুরু করুন যাতে বিকেলের মধ্যে ফিরতে পারেন।

নিরাপত্তা — সবচেয়ে জরুরি অংশ

  • ঝিরিপথ পাথুরে ও পিচ্ছিল; ট্রেকিং জুতা ও প্রয়োজন হলে লাঠি নিন।
  • বর্ষায় ঝিরির পানি হঠাৎ বেড়ে ভয়াবহ স্রোত হতে পারে — ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলে ট্রেইল বাতিল করুন; স্রোতের জায়গায় দলবদ্ধভাবে হাত ধরে পার হওয়ার কথা অভিজ্ঞদের বিবরণে আছে।
  • পথের ধাঁধার জন্য গাইড নিন; একা যাবেন না; সন্ধ্যার আগে পাহাড় থেকে নেমে আসুন।

কীভাবে যাবেন

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সীতাকুণ্ডের বড় দারোগার হাট বাজারে নামুন (চট্টগ্রাম শহর থেকে বাসে সহজেই যাওয়া যায়)। সেখান থেকে স্থানীয় যানে/হেঁটে ইটভাটা ও রেললাইন পেরিয়ে ট্রেইলহেড। থাকার জন্য সীতাকুণ্ড সদর বা চট্টগ্রাম শহরই ভরসা।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

কমলদহ ট্রেইলে কয়টি ঝর্ণা?

রূপসী, কমলদহ, ছাগলকান্দা (দুই ধাপ), পাথরভাঙ্গা ও ছুরিকাটাসহ পাঁচটির বেশি।

গাইড ছাড়া যাওয়া যাবে?

পথ বারবার ভাগ হয় — প্রথমবার গেলে স্থানীয় গাইড নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

সেরা সময় কখন?

বর্ষা ও বর্ষার পরের মাসগুলোতে ঝর্ণা পূর্ণরূপ পায়; তবে অতিবৃষ্টির দিন এড়িয়ে চলুন।

শেষকথা

কমলদহ ট্রেইল তাদের জন্য যারা ভিড়ের বাইরে সত্যিকারের ট্রেকিং চান — একটি ঝর্ণায় থেমে না গিয়ে পাঁচটির গল্প একদিনে। ঝর্ণা-রেঞ্জের বৃহত্তর অভিজ্ঞতার জন্য পড়ুন বান্দরবান: মেঘ পাহাড়ের দেশ।