• 29 Oct, 2026

দুধপুকুরিয়া-ধোপাছড়ি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য: শহর থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে অচেনা পাহাড়ি বন

দুধপুকুরিয়া-ধোপাছড়ি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য: শহর থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে অচেনা পাহাড়ি বন

রাঙ্গুনিয়া-চন্দনাইশের পাহাড়ে দুধপুকুরিয়া-ধোপাছড়ি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের (৪,৭১৬ হেক্টর, ঘোষণা ২০১০) পূর্ণ গাইড — কী দেখবেন, প্রবেশের বাস্তবতা, অনুমতি ও সতর্কতাসহ।

চট্টগ্রামের সবচেয়ে কম-আলোচিত সংরক্ষিত বনগুলোর একটি দুধপুকুরিয়া-ধোপাছড়ি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য — রাঙ্গুনিয়া ও চন্দনাইশের সীমান্তের পাহাড়জুড়ে, যেখানে রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের পাহাড়ি বনভূমি এসে মিলেছে। জেলার অন্য বন-ভ্রমণের প্রেক্ষাপটে পড়ুন সীতাকুণ্ড: একেক মৌসুমে একেক সাজ।

এক নজরে অভয়ারণ্য

  • ঘোষণা: ২০১০ সালের ৬ এপ্রিল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষিত (বন বিভাগের তালিকাভুক্ত); একই সময়ে দেশে আরও কয়েকটি সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করা হয়।
  • আয়তন: প্রায় ৪,৭১৬.৫৭ হেক্টর পাহাড়ি বনভূমি।
  • ভূগোল: শহর থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার পূর্বে; পাহাড়, ছড়া আর চিরহরিৎ-মিশ্র বনের রাজ্য — তিন জেলার (চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান) সীমানা-সংলগ্ন অঞ্চল।
  • বনে হরিণ, বন্য শূকর, বানরসহ নানা স্তন্যপায়ী, সরীসৃপ ও অসংখ্য প্রজাতির পাখির আবাস — তবে দেখা পাওয়া ভাগ্য ও নীরবতার ওপর নির্ভর করে।

সৎ সতর্কতা: এটি তৈরি পর্যটনকেন্দ্র নয়

  • এখানে পর্যটকদের জন্য তৈরি সুবিধা প্রায় নেই — নেই টিকিট কাউন্টার, বাঁধানো ট্রেইল বা রেস্ট হাউসের নিশ্চয়তা। পথ দুর্গম, বর্ষায় আরও কঠিন; স্থানীয় প্রতিবেদনেও ধোপাছড়ির বনাঞ্চল দুর্গম বলে উল্লেখ আছে।
  • যাওয়ার আগে বন বিভাগের স্থানীয় কার্যালয়ে যোগাযোগ করে প্রবেশের অনুমতি ও হালনাগাদ অবস্থা জেনে নিন; সঙ্গে অভিজ্ঞ স্থানীয় গাইড ছাড়া ভেতরে ঢুকবেন না।
  • সংরক্ষিত বনে শিকার, গাছ কাটা বা প্রাণী ধরা আইনত দণ্ডনীয়; আগুন জ্বালানো ও প্লাস্টিক ফেলে আসা সম্পূর্ণ নিষেধ।

অভিজ্ঞতা কেমন হবে

যাঁরা ‘বন দেখা’ মানে নীরব পাহাড়ি পথে হাঁটা, ছড়ার শব্দ আর পাখির ডাক মনে করেন — তাঁদের জন্য এই বন। যাঁরা সাজানো পার্ক বা নিশ্চিত প্রাণী-দর্শন খোঁজেন, তাঁদের জন্য চুনতি বা হাজারিখিলের মতো তুলনামূলক সহজ গন্তব্যই ভালো। এখানে সেরা সময় শীতকাল; ভোরে গেলে পাখি দেখার সুযোগ বেশি।

কীভাবে যাবেন

চট্টগ্রাম শহর থেকে কাপ্তাই সড়ক ধরে রাঙ্গুনিয়া (বহদ্দারহাট থেকে বাস/সিএনজি); সেখান থেকে স্থানীয় যানবাহন ও গাইড নিয়ে বনাঞ্চলের দিকে। বিকল্প প্রবেশপথ চন্দনাইশের দোহাজারী দিক থেকে — কোন দিক দিয়ে ঢুকবেন, তা অনুমতি নেওয়ার সময় বন কার্যালয় থেকেই নিশ্চিত করুন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

প্রবেশ করতে কি অনুমতি লাগে?
এটি সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য — বন বিভাগের স্থানীয় কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাওয়া আবশ্যক ধরে নিন।

একদিনে যাওয়া-আসা সম্ভব?
শহর থেকে সম্ভব, তবে ভোরে রওনা দিতে হবে; ভেতরে রাত কাটানোর ব্যবস্থা পর্যটকদের জন্য নেই।

কোন মৌসুম ভালো?
শীতকাল (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি) — বর্ষায় পথ পিচ্ছিল ও ছড়ায় পানি বেড়ে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।

শেষকথা

দুধপুকুরিয়া-ধোপাছড়ি ঘোরাফেরার তালিকার সবচেয়ে ‘বন্য’ গন্তব্য — পরিকল্পনা, অনুমতি আর ধৈর্য থাকলে তবেই এর আসল রূপ মেলে। পাহাড়ি বনের বৃহত্তর ভ্রমণে এরপর পড়ুন বান্দরবান: মেঘ পাহাড়ের দেশ।