• 29 Oct, 2026

কেওক্রাডং ভ্রমণ গাইড: তিন বছর পর খুলল দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ চূড়া — এখন গাড়িতেই চূড়ায়

কেওক্রাডং ভ্রমণ গাইড: তিন বছর পর খুলল দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ চূড়া — এখন গাড়িতেই চূড়ায়

রুমার কেওক্রাডংয়ের পূর্ণ গাইড — ২০২৫ সালের অক্টোবরে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়া, নতুন গাড়ির রাস্তা, উচ্চতা বিতর্কের সত্য, নিবন্ধনের নিয়ম ও বগা লেক থেকে যাত্রা।

রুমার গভীরে মেঘে ঢাকা কেওক্রাডং — দীর্ঘদিন ধরে এটি ছিল ট্রেকারদের ‘সর্বোচ্চ স্বপ্ন’। সুখবর: প্রায় তিন বছর বন্ধ থাকার পর ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর থেকে চূড়াটি আবার পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে — আর নতুন সড়ক হওয়ায় এখন গাড়ি নিয়েও চূড়ায় ওঠা যায়। জেলার প্রেক্ষাপট পেতে পড়ুন বান্দরবান: মেঘ পাহাড়ের দেশ।

উচ্চতা নিয়ে দুই তথ্য (সত্যটা জানুন)

  • জেলা প্রশাসনের তথ্য বাতায়ন অনুযায়ী চূড়াটির উচ্চতা ৪,৩৩০ ফুট এবং এটি বর্তমানে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ (সর্বোচ্চ তাজিংডং, থানচি) হিসেবে পরিচিত।
  • অন্যদিকে জিপিএস-জরিপভিত্তিক আধুনিক পরিমাপে উচ্চতা প্রায় ৯৮৬ মিটার (প্রায় ৩,২৩৫ ফুট) পাওয়া যায়, যেখানে এর অবস্থান আরও নিচে নামে। দুই তথ্যই প্রচলিত — পাঠক হিসেবে দুটোই জানা থাকা ভালো।
  • নামটি মারমা ভাষা থেকে এসেছে, অর্থের দিক থেকে ‘সবচেয়ে উঁচু পাথুরে পাহাড়’। একসময় একে দেশের সর্বোচ্চ চূড়া ধরা হতো।

কী বদলাল নতুন সড়কে

  • আগে বগা লেক থেকে ৩–৪ ঘণ্টার কঠিন ট্রেকিং ছাড়া চূড়ায় ওঠা যেত না; এখন চাঁন্দের গাড়ি, ল্যান্ড ক্রুজার এমনকি মোটরবাইক সরাসরি চূড়া পর্যন্ত যায় (বগা লেক থেকে গাড়িতে ঘণ্টাখানেক, হেঁটে ২–৩ ঘণ্টা — ট্রেকিংয়ের পথও খোলা আছে)।
  • পুনরায় খোলার প্রথম দিনেই ৮ শতাধিক পর্যটক চূড়ায় ওঠেন — জনপ্রিয়তা বোঝাই যাচ্ছে।
  • চূড়ায় সেনা ক্যাম্প ও একটি ছোট কটেজ আছে; পরিষ্কার দিনে চূড়া থেকে মিজোরাম ও মিয়ানমারের পাহাড়শ্রেণি দেখা যায়। পথে পড়ে বম সম্প্রদায়ের সুনসাংপাড়া ও পাসিংপাড়ার মতো উঁচু গ্রাম।

নিয়মকানুন

  • ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে বন্ধ ছিল; খোলার পরও কঠোর নিবন্ধন চালু আছে: রুমা সদরে পৌঁছানোর আগে সেনা চেকপোস্টে ফরমে তথ্য দিয়ে নিবন্ধন (গাইড অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যে জনপ্রতি সামান্য ফি ধার্য), ফরমের কপি রুমা থানা, গাইড অ্যাসোসিয়েশন ও বগা লেক-কেওক্রাডংয়ের ক্যাম্পে জমা দিতে হয়।
  • নিবন্ধিত গাইড বাধ্যতামূলক; পরিচয়পত্রের কপি সঙ্গে রাখুন। অননুমোদিত প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ।

থাকা ও পরিকল্পনা

সবচেয়ে সুবিধাজনক পরিকল্পনা: বান্দরবান শহর (শহর থেকে কেওক্রাডং ~৭৬ কিমি, রুমা সদর থেকে ~২৮ কিমি) থেকে ভোরে রওনা হয়ে রুমা-বগা লেক হয়ে চূড়া — দিনে ফেরা সম্ভব; সময় নিয়ে গেলে বগালেক পাড়ায় এক রাত কাটিয়ে ভোরের মেঘ দেখুন। সেরা মৌসুম অক্টোবর-মার্চ। হঠাৎ আবহাওয়া বদলায় — গরম কাপড় ও রেইনকোট রাখুন।

কীভাবে যাবেন

শহর থেকে চাঁন্দের গাড়ি রিজার্ভ করে রুমা বাজার (নিবন্ধন) → বগা লেক → সড়ক ধরে কেওক্রাডং চূড়া। নিজের গাড়ি/বাইক নিলে পাহাড়ি খাড়া পথের অভিজ্ঞ চালক জরুরি; বর্ষায় সড়কের অবস্থা যাচাই করে রওনা দিন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

এখন কি সত্যিই চূড়ায় গাড়ি যায়?

হ্যাঁ — নতুন সড়কে জিপ ও মোটরবাইক চূড়া পর্যন্ত পৌঁছায়; তবু আবহাওয়া ও প্রশাসনিক নির্দেশে যেকোনো সময় নিয়ম বদলাতে পারে।

ট্রেকিং করে উঠতে চাইলে?

বগা লেক থেকে হাঁটা পথও খোলা (২–৩ ঘণ্টা) — গাইডসহ উঠুন।

একদিনে বান্দরবান শহর থেকে ঘুরে আসা যায়?

সম্ভব, তবে টানটান দিন হবে; ভোরে রওনা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

শেষকথা

কেওক্রাডং ফিরে এসেছে সহজ হয়ে — কিন্তু পাহাড়ের নিয়ম একই: নিবন্ধন, গাইড আর আবহাওয়ার প্রতি শ্রদ্ধা। রুমা-যাত্রার ধারাবাহিকতায় জেলার অন্য প্রান্ত দেখতে পড়ুন লামা: প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের স্বর্গ।