• 01 Nov, 2026

লাউচাপড়া ভ্রমণ গাইড — বকশীগঞ্জের গারো পাহাড়ের পাদদেশে জেলা পরিষদের অবকাশ কেন্দ্রের ইতিহাস, ৬০ ফুট ওয়াচ টাওয়ার ও কৃত্রিম লেক, দীর্ঘ অবহেলার পর ২০২৬ সালে প্রধান পর্যটন কেন্দ্র করার সরকারি পরিকল্পনা এবং যাওয়ার সঠিক পথ।

জামালপুর শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তরে, ভারতের মেঘালয় সীমান্তের গা ঘেঁষে গারো পাহাড়ের পাদদেশে ছড়িয়ে আছে সবুজের এক অরণ্য-রাজ্য — তারই কোলে লাউচাপড়া অবকাশ কেন্দ্র, যা ক্ষণিকা পিকনিক স্পট নামেও পরিচিত (বাংলা উইকিপিডিয়া)। চারদিকে গারো আদিবাসীদের বসতি আর প্রায় ১০ হাজার একর পাহাড়ি বনভূমির (ভ্রমণ-সূত্র) মধ্যে ২৬ একরের এই কেন্দ্রটি জামালপুর জেলার সবচেয়ে পরিচিত প্রকৃতি-ভ্রমণের ঠিকানা।

গারো পাহাড়ের কোলে ক্ষণিকা

কেন্দ্রটি গড়ে তোলে জামালপুর জেলা পরিষদ — ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি (সূত্রভেদে ১৯৯৪ বা ১৯৯৬ সালে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়) (বাংলা উইকিপিডিয়া; দ্য ডেইলি স্টার)। অবস্থান বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নে, লাউচাপড়া ও ডুমুরতলা মৌজাজুড়ে। ভেতরে আছে পিকনিকের খোলা জায়গা, গাড়ি পার্কিং, শিশুদের দোলনা-স্লিপারসহ রাইড আর জেলা পরিষদের রেস্ট হাউস (ভিআইপিসহ তিনটি — ডেইলি স্টার)। নামমাত্র প্রবেশ ফি নেওয়া হয় (ভ্রমণ-সূত্রে ১০–২০ টাকা; বদলাতে পারে)।

টাওয়ার, লেক আর সীমান্তের দৃশ্য

কেন্দ্রের প্রাণ প্রায় ১৫০ ফুট উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় ওঠা আঁকাবাঁকা সিঁড়ি আর তার ওপরে ৬০ ফুট উঁচু ওয়াচ টাওয়ার (ভ্রমণ গাইড; দ্য ডেইলি স্টার)। চূড়ায় উঠলে চোখের সামনে শুধুই সবুজ পাহাড়ের সারি — পরিষ্কার দিনে সীমান্তের ওপারে মেঘালয়ের পাহাড় আর তুরা জেলার ছোট্ট শহর মহেন্দ্রগঞ্জও দেখা যায় বলে ভ্রমণকারীরা বলেন। পাহাড় বেয়ে ওঠার ক্লান্তি জুড়াতে নিচে আছে সবুজ ঘাসের মাঝে কৃত্রিম লেক, যার ওপর দুটি সেতু (দ্য ডেইলি স্টার)। চারপাশের গারো পল্লীর জীবনধারাও এই ভ্রমণের অংশ — তবে ছবি তোলার আগে অবশ্যই অনুমতি নিন। স্পট থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার উত্তরে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া (ভ্রমণ-সূত্র) — সীমান্ত এলাকার নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক, বেড়ার দিকে এগোবেন না।

অবহেলার বছরগুলো আর ২০২৬-এর প্রতিশ্রুতি

সৎ চিত্রটা দীর্ঘদিন ধরেই করুণ ছিল: ২০১৩ সালের এক প্রতিবেদনে কামালপুর–লাউচাপড়া সড়কের প্রায় ৫ কিলোমিটার অংশের বেহাল দশা, জরাজীর্ণ কাঠের সেতু, বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের অভাব আর তার ফলে দর্শনার্থী কমে যাওয়ার কথা বিস্তারিত এসেছিল (দ্য ডেইলি স্টার)। তবে ছবিটা বদলাতে পারে শীঘ্রই: ২০২৬ সালের ১৬ অক্টোবর বকশীগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন — লাউচাপড়াকে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যা বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায়; বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় হাজারো তরুণের কর্মসংস্থান হবে বলে তিনি জানান (জামালপুর নিউজ; ডেইলি মিরর, অক্টোবর ২০২৬)। অর্থাৎ এখন গেলে পাবেন শান্ত, প্রায় অস্পর্শ প্রকৃতি — পরিকল্পিত সাজসজ্জা এখনো ভবিষ্যতের ব্যাপার।

ভ্রমণ তথ্য

যাওয়া: অদ্ভুত শোনালেও সত্যি — লাউচাপড়া জামালপুর জেলায় হলেও যাওয়ার সহজ পথ শেরপুর হয়ে (সরকারি পর্যটন পোর্টাল; ভ্রমণ গাইড)। ঢাকা থেকে শেরপুরের বাসে শেরপুর, সেখান থেকে বকশীগঞ্জ (প্রায় ১০–১৫ কিলোমিটার ভেতরে কেন্দ্র); জামালপুর হয়েও যাওয়া যায় — জেলা শহর থেকে বকশীগঞ্জ হয়ে ধানুয়া কামালপুর। থাকা: জেলা পরিষদের পাহাড়িকা বাংলো/রেস্ট হাউসে থাকতে আগাম অনুমতি লাগে — জেলা পরিষদ কার্যালয়ে যোগাযোগ করে যান; অনেকে শেরপুর বা জামালপুর শহরে রাত কাটিয়ে দিনের ভ্রমণে আসেন। কখন: শীতকাল (নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি) সেরা; বর্ষায় পাহাড়ি পথ পিচ্ছিল হতে পারে। টিপস: খাবার-পানি সঙ্গে রাখুন (ভেতরে ব্যবস্থা সীমিত), বিকেলের আলোয় টাওয়ারে উঠুন, আর ফেরার পথে ময়মনসিংহ শহর ঘুরে গেলে সফরটা পূর্ণ হয়।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

লাউচাপড়া কোথায়?

জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুরে, গারো পাহাড়ের পাদদেশে (বাংলা উইকিপিডিয়া)।

কে পরিচালনা করে, কবে তৈরি?

জামালপুর জেলা পরিষদ; ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝিতে দর্শনার্থীদের জন্য খোলা হয়।

টাওয়ার কত উঁচু?

প্রায় ১৫০ ফুট পাহাড়ের ওপর ৬০ ফুট ওয়াচ টাওয়ার (ভ্রমণ গাইড)।

রাতে থাকা যায় কি?

জেলা পরিষদের রেস্ট হাউসে আগাম অনুমতি নিয়ে থাকা যায় (ভ্রমণ গাইড)।

কোন পথে যাওয়া সহজ?

শেরপুর হয়ে — ঢাকা থেকে শেরপুর, তারপর বকশীগঞ্জ হয়ে লাউচাপড়া (সরকারি পর্যটন পোর্টাল)।

সরকারি উন্নয়ন পরিকল্পনার অবস্থা কী?

প্রধান পর্যটন কেন্দ্র করার প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় (অক্টোবর ২০২৬-এর ঘোষণা)।

শেষকথা

লাউচাপড়া এখন পর্যন্ত প্রতিশ্রুতির জায়গা — প্রকৃতি তার সবটা দিয়ে রেখেছে, মানুষের যত্নটা এখনো পথে। ওয়াচ টাওয়ারের চূড়া থেকে মেঘালয়ের দিগন্ত দেখে নামলে মনে হয়, সঠিক বিনিয়োগ পেলে এই একটা স্পটই বদলে দিতে পারে পুরো সীমান্ত-জনপদের অর্থনীতি।